Lycopodium clavatum
Adolph von Lippe দ্বারা — Materia Medica-র পাঠ্যপুস্তক
চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র। নিচের বক্তব্যগুলো উল্লিখিত লেখকের হোমিওপ্যাথিক শিক্ষার প্রতিফলন এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠা করে না। এই লেখা চিকিৎসা-পরামর্শ নয় এবং যথাযথ রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন ও মানসিক অবস্থা
মনমরা, স্বল্পভাষী, বিষণ্ণ; নিজের পরিত্রাণ নিয়ে সংশয়।
হতাশ ও শোকাতুর মেজাজ।
কান্নাপ্রবণ, দুঃখিত মেজাজ; অত্যন্ত সংবেদনশীল।
মানুষকে ভয়; একা থাকতে চায়, অথবা একাকিত্বে বিরাগ।
অত্যন্ত উদাসীন।
একগুঁয়ে, উগ্র, ক্রুদ্ধ; খিটখিটে ও স্নায়বিক।
মাথা
বিহ্বলকারী মাথাব্যথা, সঙ্গে রগ ও কানে উত্তাপ; মুখ ও ঠোঁট শুষ্ক; বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, উঠে দাঁড়ালে এবং শুয়ে পড়লে বৃদ্ধি।
মাথার চূড়ায় চাপধরা মাথাব্যথা; বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, ঝুঁকলে, শুয়ে পড়লে ও মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি; পরে অত্যধিক দুর্বলতা।
কপালে অথবা মাথার ডান দিকে ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ব্যথা, ঘাড় পর্যন্ত নেমে যায়; সঙ্গে মুখ, চোখ ও দাঁতে একই ধরনের ব্যথা; উঠে বসলে বৃদ্ধি, শুয়ে থাকলে ও খোলা বাতাসে উপশম।
মাথায় টানটান ভাব; রাতে বিছানায় শুয়ে থাকলে এবং খোলা বাতাসে হাঁটার সময় শরীর গরম হয়ে গেলে বৃদ্ধি; খোলা বাতাসে ধীরে হাঁটলে, ঠান্ডায় ও মাথা অনাবৃত করলে উপশম।
রগে শূলবেদনা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডান দিকে, ভেতর থেকে বাইরের দিকে; সন্ধ্যায় ও রাতে বিছানায় শুয়ে থাকলে, উত্তাপে ও মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি; ঠান্ডায় ও খোলা বাতাসে উপশম।
মাথায় রক্তসঞ্চয়, বিশেষত সকালে বিছানায় উঠে বসার সময়।
প্রাতরাশের পর মাথাব্যথা।
রাতে মাথার বাইরের অংশে ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ও তুরপুনের মতো ব্যথা এবং চেঁছে দেওয়ার অনুভূতি।
মাথার পেছনে মামড়ির চর্মোদ্গম; সিক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত, সহজে রক্তপাত হয় এবং জ্বালা করে; চুলকানোর পর সিক্ততা ও মামড়ি বৃদ্ধি পায়।
অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়।
টাক পড়া; প্রথমে মাথার চূড়া থেকে, পরে রগের দিক থেকে চুল ঝরে যায় (উদরীয় অঙ্গগুলির রোগের পর; প্রসবের পর); সঙ্গে মাথার ত্বকে তীব্র জ্বালা, ঝলসে যাওয়ার অনুভূতি ও চুলকানি, বিশেষত দিনের বেলা পরিশ্রমে শরীর গরম হলে।
চোখ
সন্ধ্যায় আলোর দিকে তাকালে চোখে শূলবেদনা ও ক্ষতভাব।
চোখে প্রদাহ; দিনের বেলা অশ্রুপাত এবং রাতে চোখের পাতা আঠার মতো জুড়ে যায়।
আলোসহ্যহীনতা।
চোখের সামনে যেন পালক রয়েছে—এমন দৃষ্টির আবছায়া।
দৃষ্টিক্ষেত্রের লম্বালম্বি অর্ধাংশে দৃষ্টি থাকে।
চোখের কোণে চুলকানি।
চোখে ঠান্ডা অনুভূতি।
চোখের পাতায়, ভেতরের কোণের কাছে আঞ্জনি।
চোখ নিষ্প্রভ ও উত্তপ্ত।
চোখ বিস্ফারিত, আলোতে অসংবেদনশীল এবং স্থির।
সন্ধ্যায় চোখ শুষ্ক।
অন্ধকারে চোখের সামনে স্ফুলিঙ্গ দেখা যায়।
কান
শ্রবণশক্তি অতিসংবেদনশীল।
সংগীত ও অন্যান্য শব্দে কানে যন্ত্রণা হয়।
কানে গর্জন, গুনগুন ও শোঁ-শোঁ শব্দ।
যেন উত্তপ্ত রক্ত কানের মধ্যে ছুটে আসে—এমন অনুভূতি।
কানে রক্তসঞ্চয়।
কানের ওপর ও পেছনে সিক্ত, পুঁজযুক্ত খোসা।
কানে ক্ষত হয়ে পুঁজ ঝরে।
শ্রবণশক্তি হ্রাস; শোঁ-শোঁ শব্দের সঙ্গে কান বন্ধ হয়ে যায়।
কানে যেন ফুটন্ত জলের শব্দ শোনা যায়।
নাক
ঘ্রাণশক্তি অতিসংবেদনশীল।
নাক দিয়ে রক্তপাত, প্রধানত বিকেলে।
নাকের মধ্যে খোসা।
প্রতি রাতে পুঁজে নাসারন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।
নাক শুষ্ক।
নাকের গোড়ার কাছে বাধা; কেবল নাক দিয়েই শ্বাস নিতে পারে।
পশ্চাৎ নাসারন্ধ্র শুষ্ক।
ঝাঁঝালো স্রাবসহ সর্দি, যাতে ওপরের ঠোঁটে ক্ষতভাব হয়।
তীব্র সর্দি, সঙ্গে নাক ফুলে যায়।
নাসারন্ধ্র পাখার মতো ওঠানামা করে।
মুখমণ্ডল
মুখ ফ্যাকাশে, গভীর ভাঁজযুক্ত, বিশেষত সন্ধ্যার দিকে।
মাটির মতো হলুদ মুখের বর্ণ, সঙ্গে গভীর ভাঁজ, চোখের চারপাশে নীল বলয় এবং নীল ঠোঁট।
মুখে হঠাৎ উত্তাপের ঝলক।
মুখের পেশিতে খিঁচুনিজনিত অনৈচ্ছিক ঝাঁকুনি।
মুখের চারপাশে ফুসকুড়ি।
নিচের ঠোঁটের লাল প্রান্তে একটি বড় ক্ষত।
মুখের কোণগুলিতে ক্ষতভাব।
ওপরের ঠোঁট ফুলে যায়।
মুখে সিক্ত ও পুঁজযুক্ত ফুসকুড়ি।
নিচের চোয়াল ঝুলে পড়ে।
ছিটছিটে বাদামি দাগ (ফ্রেকলস)।
চোয়ালের নিচের গ্রন্থিগুলি ফুলে যায়।
মুখ ও গলা
দাঁত স্পর্শ করলে অত্যধিক ব্যথা হয়।
দাঁত হলুদ।
দাঁতব্যথা, সঙ্গে গাল ফুলে যায়; বিছানার উত্তাপে ও গরম প্রয়োগে উপশম।
Fistula dentalis।
মাড়ি স্পর্শ করলে প্রচুর রক্তপাত হয়।
মাড়িতে ফোঁড়া।
মুখ থেকে পচাগন্ধ, বিশেষত সকালে ঘুম ভাঙার সময়।
তৃষ্ণা ছাড়াই মুখ ও জিহ্বা শুষ্ক।
জিহ্বা শক্ত হয়ে যায় এবং কথা অস্পষ্ট হয়।
জিহ্বার ডগায় ছোট ফোস্কা; স্থানগুলি ঝলসে যাওয়া ও কাঁচা-ক্ষত মনে হয়।
জিহ্বায় ক্ষতভাব।
জিহ্বার ওপর ও নিচে ক্ষত।
জিহ্বায় খিঁচুনি।
জিহ্বার বিভিন্ন স্থান বেদনাদায়ক ও ফোলা (জিহ্বায় গুটিকা)।
লালা তালু ও ঠোঁটে শুকিয়ে গিয়ে ঘন, আঠালো শ্লেষ্মায় পরিণত হয়।
মুখের পেছনের অংশ ঘন, আঠালো শ্লেষ্মায় আবৃত।
মুখ শুষ্ক ও তিক্ত (সকালে)।
জিহ্বা শুষ্ক; কালো ও ফাটলযুক্ত হয়ে যায়।
গলায় প্রদাহ, গিললে শূলবেদনা।
টনসিল ফুলে যায় ও তাতে পুঁজ হয়।
টনসিলের ক্ষত ডান দিক থেকে শুরু হয়।
গলবিল সংকুচিত মনে হয়; কিছুই গেলা যায় না।
গলা খাঁকারি দিয়ে রক্তমিশ্র শ্লেষ্মা ওঠে।
পাকস্থলী ও উদর
কুকুরের মতো প্রচণ্ড ক্ষুধা।
মিষ্টি খাবারের আকাঙ্ক্ষা।
কফি, ধূমপান এবং সেদ্ধ গরম খাবারে বিরাগ।
খাবারের পর মুখে তিক্ত স্বাদ অথবা অম্লতা।
খাবারের স্বাদ টক লাগে।
সকালে বমিভাবসহ মুখে তিক্ততা।
গলবিল ও পাকস্থলীতে বমিভাব।
সকালে এবং গাড়িতে চড়ার সময় বমিভাব।
খাবার ও পিত্ত বমি; জমাট রক্ত ও পুঁজজাত পদার্থ বমি।
সবিরাম জ্বরে শীত ও উত্তাপের মধ্যবর্তী সময়ে বমি।
বুকজ্বালা।
ঘন ঘন, নির্দিষ্ট বিরতিতে হেঁচকি।
(হালকা) আহারের অব্যবহিত পরেই উদর ফাঁপা, পূর্ণ ও স্ফীত হয়ে যায়।
প্রবল ক্ষুধা থাকে, কিন্তু অল্প খাবারেই পেট ভরে যায় এবং পেট ফাঁপা বোধ হয়।
প্রতিবার আহারের পর পাকস্থলীতে চাপ, সঙ্গে মুখে তিক্ত স্বাদ।
অধিজঠর অঞ্চলে বেদনাদায়ক ফোলা ও সংবেদনশীলতা; আঁটসাঁট পোশাক ও স্পর্শে বৃদ্ধি।
পাকস্থলীর ক্যান্সার।
পাঁজরের নিচের দুই পাশের অঞ্চলে যেন একটি বৃত্তাকার বন্ধনী দিয়ে বাঁধা—এমন টান।
যকৃতে প্রদাহ ও শক্ত হয়ে যাওয়া।
যকৃতে চাপ ও টান, বিশেষত পেট ভরে খাওয়ার পর।
উদরে শক্ত হয়ে যাওয়া অংশ।
বায়ু জমে আটকে থাকে—বায়ু বেরোতে পারে না এবং অত্যধিক ব্যথা সৃষ্টি করে।
পাকস্থলীর অঞ্চলে কুরে-কুরে ও মোচড়ানো অনুভূতি।
উদরে অবিরাম গড়গড় শব্দ।
হার্নিয়া (ডান দিকে)।
হজমের সময় হৃদ্কম্পন।
পেট পূর্ণ ও স্ফীত, সঙ্গে পা ঠান্ডা।
উদরে খিঁচুনিজনিত সংকোচন।
মল ও মলদ্বার
কোষ্ঠকাঠিন্য।
শক্ত মল, সঙ্গে মলত্যাগের নিষ্ফল বেগ।
মলত্যাগের বেগের পর মলাশয় অথবা মলদ্বারে বেদনাদায়ক সংকোচন।
অল্প মল; যেন অনেকটাই থেকে গেছে—এমন অনুভূতি; পরে অত্যধিক ও বেদনাদায়ক বায়ু জমে।
মলাশয় থেকে রক্তপাত, এমনকি নরম মলের পরেও।
প্রচুর মলত্যাগের পরেও মলাশয়ে পূর্ণতার অনুভূতি থাকে।
অল্প পরিমাণ শক্ত মলত্যাগের পর পেরিনিয়ামে সংকোচনকারী ব্যথা।
মলাশয়ে শূলবেদনা।
ফ্যাকাশে, পচাগন্ধযুক্ত মল।
অতিসার (গর্ভাবস্থায়), সঙ্গে মুখের বর্ণ মাটির মতো।
মলদ্বারে চুলকানি ও টান (সন্ধ্যায় বিছানায়)।
মলদ্বারে চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি, স্পর্শে বেদনাদায়ক।
মলদ্বার বেদনাদায়কভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
অর্শের স্ফীত শিরাগুলি বাইরে বেরিয়ে আসে।
মলাশয়ের অর্শীয় শিরাগুলি স্ফীত হয়।
মূত্রাঙ্গ
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাকাশে প্রস্রাব নির্গত হয়।
রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব; দিনে অল্প পরিমাণে ও কদাচিৎ প্রস্রাব হয়।
প্রস্রাব গাঢ় এবং পরিমাণ কম।
প্রস্রাবে লাল বালির মতো তলানি; প্রস্রাবের ওপর তৈলাক্ত পরত।
অনিচ্ছাকৃত প্রস্রাব।
মূত্রাশয় থেকে ব্যথাহীন রক্তস্রাব।
ফেনাযুক্ত প্রস্রাব।
প্রস্রাবের সময় ও পরে মূত্রনালিতে চুলকানি।
মূত্রাশয়ে শূলবেদনা।
একই সময়ে মূত্রাশয়ের গ্রীবা ও মলদ্বারে শূলবেদনা।
বৃক্কশূল।
যৌনাঙ্গ
পুরুষ। যৌনকামনা বৃদ্ধি পায় অথবা দমিত হয়।
পুরুষত্বহীনতা; লিঙ্গ ছোট, ঠান্ডা ও শিথিল।
দুর্বল উত্থান।
অগ্রত্বকের ভেতরের পৃষ্ঠে চুলকানি।
অণ্ডথলি ও উরুর মধ্যবর্তী স্থানে ক্ষতভাব।
যৌনাঙ্গে শোথজাত ফোলা।
লিঙ্গমুণ্ডের বলয়টির পেছনে প্রচুর হলদে স্রাব।
যৌনমিলনের সময় ঘুমিয়ে পড়ে।
উত্থান ছাড়াই প্রোস্টেটীয় তরল নির্গত হয়।
অত্যধিক ও শক্তিক্ষয়কারী স্বপ্নদোষ।
নারী। ঋতুস্রাব অত্যধিক এবং অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী।
ঋতুস্রাব দমন, ভয়ের কারণেও।
ঋতুস্রাবের আগে উদর ফাঁপা, শীতশীত ভাব, মনমরা, হতাশা ও বিষণ্ণতা।
যোনি শুষ্ক।
সহবাসের সময় যোনিতে জ্বালা।
যৌনাঙ্গে স্ফীত শিরা।
ক্ষতকর শ্বেতপ্রদর, দুধের মতো অথবা রক্তমিশ্র; পূর্ণিমার আগে বৃদ্ধি।
গর্ভপাতের প্রবণতা।
স্তনবৃন্তে দংশনকারী ব্যথা।
স্তনবৃন্তে ক্ষতভাব অথবা তার ওপর ছড়িয়ে-পড়া খোসা।
স্তনে শক্ত, জ্বালাযুক্ত গাঁট।
শ্বাসযন্ত্র
শিশুদের শ্বাসকষ্ট, বিশেষত ঘুমের সময়।
যেকোনো পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হয়।
শ্বাস নিতে চাপ বোধ; খোলা বাতাসে হাঁটলে বৃদ্ধি।
যেন বুকে অতিরিক্ত শ্লেষ্মা রয়েছে—এমন অনুভূতি, সঙ্গে দিনের বেলা শোঁ-শোঁ শ্বাস।
বুকে ঘড়ঘড় শব্দ।
দিনরাত শুকনো কাশি।
রাতে এমন কাশি, যা পাকস্থলীতে আঘাত করে।
কাশিতে দিনের বেলা কফ ওঠে, রাতে ওঠে না।
গভীর শ্বাসে সুড়সুড়িজনিত কাশি।
কাশি, সঙ্গে প্রচুর পুঁজযুক্ত কফ।
কাশির সঙ্গে ধূসর, নোনতা স্বাদের কফ অথবা রক্ত ওঠে।
শ্বাসনালিতে সালফারের ধোঁয়ার মতো উত্তেজনা থেকে হুপিং কাশি; সকালে ও দিনের বেলা হয়, সঙ্গে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ অথবা রক্তের রেখাযুক্ত শ্লেষ্মা ওঠে।
সকালের কাশি, সঙ্গে সবুজ কফ।
কাশি বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়; প্রায়ই এক দিন অন্তর হয়; পরিশ্রমে, বাহু প্রসারিত করলে, ঝুঁকলে ও শুয়ে পড়লে, (বাঁ) পাশে শুলে, ঠান্ডা খাবার ও পানীয় গ্রহণে, বাতাসে অথবা উষ্ণ ঘরে বৃদ্ধি।
স্বরভঙ্গ; কণ্ঠস্বর দুর্বল ও কর্কশ।
বুকে খসখসে ভাব, ক্ষতভাব ও টান।
কাশির সঙ্গে পাকস্থলীর অঞ্চলে বেদনাবোধ।
বুকে চাপ, সঙ্গে শ্বাসকষ্ট।
বুকে অবিরাম চাপ; ভেতরটা কাঁচা-ক্ষত মনে হয়।
বুকের বাঁ দিকে শূলবেদনা, শ্বাস নেওয়ার সময়ও। (টাইফয়েড ও অবহেলিত) নিউমোনিয়া। (ফুসফুসের হেপাটাইজেশন)।
ফুসফুসের পক্ষাঘাত।
বক্ষগহ্বরে জল জমা।
বুকে হলুদ মেছতার দাগ।
বুকে চুলকানি।
হৃদ্কম্পন, আহারের পর বৃদ্ধি।
পিঠ ও ঘাড়
কটিদেশে ব্যথা ও শক্তভাব (রাতে)।
কটিদেশে শূলবেদনা, বিশেষত ঝুঁকে থাকা অবস্থা থেকে সোজা হওয়ার সময়।
দুই স্ক্যাপুলার মাঝখানে যেন লাল-তপ্ত কয়লার দাহ।
ঘাড়ের (বাঁ দিকে) বেদনাদায়ক শক্তভাব।
ঘাড়ের এক পাশ শক্ত ও ফোলা।
ঘাড়ের গ্রন্থিগুলি ফুলে যায়।
ঘাড়ের চারপাশে বড় বড় গুচ্ছে লাল ব্রণ, সঙ্গে তীব্র চুলকানি।
ঘাড়ে ক্ষতভাব।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
ঊর্ধ্বাঙ্গ। ডান কাঁধের সন্ধিতে বাতজনিত টান।
রাতে বাহুর হাড়ে ব্যথা।
বাহু ও আঙুল সহজেই অবশ হয়ে যায়।
কাজের সময় বাহু দুর্বল।
ডান কবজির সন্ধিতে মচকে যাওয়ার মতো ব্যথা।
আঙুলের সব সন্ধি লাল, প্রদাহযুক্ত ও ফোলা।
বাহু ও কাঁধে অনৈচ্ছিক ঝাঁকুনি।
হাতের ত্বক শুষ্ক।
হাতের তালুতে জ্বালা।
গেঁটেবাতজনিত গাঁটের কারণে আঙুল শক্ত হয়ে যায়।
আঙুলগুলির মাঝে চুলকানিযুক্ত ব্রণ। Panaritium।
নিম্নাঙ্গ। প্রতি রাতে পায়ে (ছিঁড়ে যাওয়ার মতো) ব্যথা।
বাঁ নিতম্বের সন্ধিতে বাতজনিত টান।
নিতম্বের সন্ধিতে মচকে যাওয়ার মতো ব্যথা।
হাঁটু ফোলা ও শক্ত।
হাঁটুর শ্বেতস্ফীতি।
হাঁটু ফুলে যায়, সঙ্গে ঘাম।
হাঁটার সময় পায়ের পেছনের পেশিতে সংকোচনজনিত (খিঁচুনির মতো) ব্যথা।
গোড়ালির চারপাশসহ পা ফুলে যায়।
পায়ের তলা ফুলে যায়।
হাঁটার সময় পায়ের তলায় ব্যথা।
পা ঠান্ডা ও ঘর্মাক্ত।
পায়ে প্রচুর ঘাম; পায়ে ক্ষতভাব হয়।
ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে শূলবেদনা (সন্ধ্যায়)।
গোড়ালিতে গভীর ফাটল।
পায়ের আঙুলে খিঁচুনি।
কড়ায় শূলবেদনা, সঙ্গে ক্ষতভাব।
হাঁটুর নিচের অংশে পুরোনো ক্ষত; রাতে ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ব্যথা, চুলকানি ও জ্বালা।
সাধারণ লক্ষণ
অঙ্গপ্রত্যঙ্গে টানধরা ও ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ব্যথা, বিশেষত রাতে ও বিশ্রামের সময় অথবা এক দিন অন্তর বিকেলে।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অবশ; যেন রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে—এমন অনুভূতি।
অত্যধিক শীর্ণতা, অত্যধিক অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা।
সারা শরীরে অনৈচ্ছিক ঝাঁকুনি।
কিছু অঙ্গ সংকুচিত হয়ে যায়।
সব সন্ধিতে শক্তভাব।
সমস্ত শরীর থেঁতলানো মনে হয়।
শরীরের বিভিন্ন অংশের পেশি অনিচ্ছাকৃতভাবে পালাক্রমে প্রসারিত ও সংকুচিত হয়।
মৃগীজনিত খিঁচুনি, সঙ্গে চিৎকার, মুখে ফেনা, চেতনা হারানো, বাহু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এদিক-ওদিক ছুড়ে দেওয়া, হৃদয়ে প্রবল উৎকণ্ঠা এবং মনে হয় তাকে মরতেই হবে।
দিনের নির্দিষ্ট সময়ে মূর্ছাভাব।
ঘুম
দিনের বেলা ঘুমঘুম ভাব, কিন্তু রাতে ঘুমাতে পারে না; মন অতিমাত্রায় সক্রিয় থাকে।
অস্থির ঘুম, সঙ্গে উদ্বেগপূর্ণ স্বপ্ন ও ঘন ঘন ঘুম ভাঙা।
ঘুমের মধ্যে জোরে কাশি; ঘুমন্ত অবস্থায় চিৎকার।
অতিগভীর আচ্ছন্ন নিদ্রা।
ঘুমিয়ে পড়ার সময় চমকে ওঠে।
কোনো অবস্থাতেই আরাম পায় না।
রাতে ঘুম ভাঙলে ক্ষুধা লাগে।
ঘুমে সতেজতা আসে না।
জ্বর
কেবল সন্ধ্যা ও বিকেলে নাড়ির গতি দ্রুত হয়।
যেন রক্তসঞ্চালন থেমে গেছে—এমন অনুভূতি।
বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শীতশীত ভাব, সঙ্গে হাত ও পায়ে অবশতার মতো অনুভূতি।
সন্ধ্যায় বিছানায় শীতশীত ভাব, যা ঘুমাতে বাধা দেয়।
শরীরের এক পাশে শীতশীত ভাব, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাঁ দিকে।
শীতের পর উত্তাপ ছাড়াই ঘাম হয়।
শীত ও উত্তাপ পালাক্রমে আসে।
স্বাভাবিক দেহ-উষ্ণতার অভাব।
সারা শরীরে উত্তাপের ঝলক, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্ধ্যার দিকে; সঙ্গে একবারে অল্প অল্প করে ঘন ঘন পানি পান, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাব বৃদ্ধি।
এক (বাঁ) পা উত্তপ্ত, অন্য (ডান) পা ঠান্ডা।
সামান্যতম পরিশ্রমে দিনের বেলা প্রচুর ঘাম।
রাতে ও সকালে ঘাম, প্রায়ই সঙ্গে মুখ ঠান্ডা।
রাতে আঠালো ঘাম।
ঘাম প্রায়ই ঠান্ডা; টক অথবা দুর্গন্ধযুক্ত, কিংবা পেঁয়াজের মতো গন্ধযুক্ত অথবা রক্তমিশ্র।
সবিরাম জ্বর। বমিভাব ও বমি, তারপর শীতশীত ভাব; এর পরে ঘাম হয় (আগে উত্তাপ না হয়েই)।
সন্ধ্যায় বিছানায় মধ্যরাত পর্যন্ত শীতশীত ভাব; পরে উত্তাপ এবং সকালে টক-গন্ধযুক্ত ঘাম।
গালে প্রচণ্ড উত্তাপ ও লালভাব, শীতশীত ভাবের সঙ্গে পালাক্রমে আসে।
সন্ধ্যা ৭টায় কাঁপুনিসহ শীত এবং যেন বরফের ওপর শুয়ে আছে—এমন প্রচণ্ড শীতলতা; সঙ্গে সারা শরীরে টান; স্বপ্নপূর্ণ ঘুম থেকে ঘামে ঢাকা অবস্থায় জেগে ওঠার পর হয়; ঘামের পরে তীব্র তৃষ্ণা।
এক দিন অন্তর জ্বর, সঙ্গে টক বমি (শীত ও জ্বরের মধ্যবর্তী সময়ে বৃদ্ধি); শীতের পরে মুখ ও হাত ফেঁপে যায়।
টাইফাস জ্বর (মস্তিষ্কের আসন্ন পক্ষাঘাতসহ)।
ত্বক
দিনের বেলা শরীর গরম হলে কামড়ানোর মতো চুলকানি।
সিক্ত, পুঁজযুক্ত দাদ; গভীর ফাটলে পূর্ণ এবং পুরু মামড়িতে আবৃত।
শিশুদের শরীরে ক্ষতভাব; ক্ষতস্থানগুলি সিক্ত।
ক্ষত, সঙ্গে রাতে ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ও চুলকানিযুক্ত ব্যথা; স্পর্শ করলে জ্বালা। (পারদঘটিত ক্ষত); অন্য সময় ব্যথাহীন ক্ষতে ড্রেসিং করার সময় রক্তপাত ও জ্বালা।
রক্তফোঁড়া (পর্যায়ক্রমে)।
হাড়ে প্রদাহ, সঙ্গে রাতে ব্যথা।
হাড় নরম হয়ে যাওয়া।
অস্থিক্ষয়।
নালিযুক্ত ক্ষত; প্রান্তগুলি শক্ত, লাল-চকচকে ও বাইরের দিকে উল্টে থাকে; আক্রান্ত অংশে প্রদাহজনিত ফোলা।
গ্রন্থি ফুলে যায়।
শীতজনিত ফোলা।
গেঁটেবাতজনিত গাঁট।
ছিটছিটে বাদামি দাগ (ফ্রেকলস)।
মেছতার দাগ (উদরে)।
শোথজাত ফোলা।
অবস্থাসমূহ
সহজেই ঠান্ডা লাগার প্রবল প্রবণতা।
খোলা বাতাসের প্রবল আকাঙ্ক্ষা অথবা তার প্রতি সম্পূর্ণ বিরাগ।
বৃদ্ধি বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত; তবে এই সময় দুর্বলতা ছাড়া অন্য সবকিছু ভালো থাকে।
বিশ্রামের সময় দুর্বলতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়, কিন্তু পরিশ্রমের প্রতিও প্রবল বিরাগ থাকে।
বৃদ্ধি শুয়ে পড়লে, বসে থাকলে, আসন থেকে উঠলে ও হাঁটা শুরু করার সময় (শক্তভাব); আহারের পর ও পেট ভরে খাওয়ার পর; ঝিনুক খাওয়ার পর; নোনতা খাবারে; ঠান্ডা খাবার বা পানীয়ে; ভেজা (গরম) প্রলেপে; পোশাকের চাপে; তীব্র গন্ধে; প্রস্রাব করার সময়।
উপশম শরীর ঠান্ডা হলে, শরীর অনাবৃত করলে, আসন থেকে ওঠার পর ও একটানা হাঁটতে থাকলে, গরম খাবার ও পানীয়ে।
কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসা Lycopodium দিয়ে শুরু করা সমীচীন নয়; প্রথমে অন্য কোনো অ্যান্টিসোরিক নয় এমন ঔষধ দেওয়া ভালো।
Lachesis ও Lycopodium পরপর দিলে ভালো কাজ করে।
Pulsatilla অথবা Calcarea-এর পর Lycopodium ভালো কাজ করে।