Nux moschata
Adolph von Lippe দ্বারা — Materia Medica-র পাঠ্যপুস্তক
চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র। নিচের বক্তব্যগুলো উল্লিখিত লেখকের হোমিওপ্যাথিক শিক্ষার প্রতিফলন এবং চিকিৎসার কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠা করে না। এই লেখা চিকিৎসা-পরামর্শ নয় এবং যথাযথ রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন ও মানসিক প্রবণতা
মনোভাব পরিবর্তনশীল; হঠাৎ হঠাৎ মনোভাবের পরিবর্তন, প্রচণ্ড তন্দ্রা ও অজ্ঞান হয়ে পড়ার প্রবণতাসহ হিস্টেরিয়া।
অত্যন্ত সিদ্ধান্তহীন, নিজের অভিপ্রায় ক্রমাগত বদলায়।
অন্যমনস্কতা; পড়ার সময় চিন্তা মিলিয়ে যায়, ঘুমিয়ে পড়ার প্রবণতা।
ইন্দ্রিয়বোধের মন্দতা, ভাবনাশূন্যতা, সঙ্গে চেতনা ধীরে ধীরে ফিরে আসে।
সবকিছুতেই হাসার প্রবল প্রবণতা, বিশেষত খোলা বাতাসে।
চিন্তার ধীরতা; স্মৃতিশক্তি লোপ।
জড়বুদ্ধিতা; উন্মত্ততা।
প্রচণ্ড মাথা ঘোরা, অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি, অসংগত কথাবার্তা, উচ্চ স্বর ও জোরালো কণ্ঠ এবং সম্পূর্ণ অনিদ্রাসহ প্রলাপ।
মাথা
মাতালের মতো মাথা ঘোরা ও টলমলভাব, সঙ্গে প্রলাপ, অথবা উন্মত্ততা, অথবা সংজ্ঞাহীনতা।
খোলা বাতাসে হাঁটার সময় দুলতে থাকা, সঙ্গে টলমল চলন, ক্রমশ দেহ শক্ত হয়ে যাওয়া ও সংজ্ঞাহীনতা।
অজ্ঞান হয়ে পড়া, সঙ্গে হৃদ্কম্পন; পরে ঘুম।
মস্তিষ্ক যেন আলগা হয়ে আছে এমন অনুভূতি; মাথা ঝাঁকালে বা নাড়ালে মনে হয় যেন মস্তিষ্কটি করোটিতে আঘাত করছে, সঙ্গে আহারের পরে ঘুমভাব; ঠান্ডায় খারাপ, উষ্ণতা ও তাপে ভালো।
মাথায় ব্যথাযুক্ত কোমলতার মতো সংবেদনশীলতা, বিশেষত সামান্যতম স্পর্শেও অত্যন্ত সংবেদনশীল; বাতাসের ঝাপটায়; ঠান্ডায় ও শুয়ে পড়লে খারাপ, জোরে চাপ দিলে ও বাহ্যিক তাপে ভালো।
বাঁ চোখের উপরে ছোট একটি স্থানে স্পন্দনশীল, চাপধরা ব্যথা।
মাথায় ব্যথাহীন স্পন্দন, সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ার ভয়।
মাথাব্যথা সাধারণত খাওয়ার পরে, বিশেষত প্রাতরাশের পরে অথবা পাকস্থলী অতিরিক্ত ভরে খেলে দেখা দেয়।
চোখ
চোখে শুষ্কতার অনুভূতি ও প্রকৃত শুষ্কতা; চোখের পাতা কেবল কষ্টে নাড়াতে পারে।
চোখের চারপাশে ও চোখের পাতায় টানটান ভাব।
চোখে পূর্ণতার অনুভূতি, সঙ্গে সংকুচিত চোখের মণি।
দৃষ্টিবিভ্রম; বস্তু অত্যধিক দূরে মনে হয়।
দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা।
কান
কর্ণশূল, সঙ্গে হুল-ফোটানো ব্যথা—ডান কানে।
ইউস্টেশিয়ান নালিতে খসখসে কোনো বস্তু থাকার মতো ব্যথা—আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়, বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে।
নাক
হাঁচি; ভোরবেলা।
নাক বন্ধ, বিশেষত বাঁ নাসারন্ধ্র।
মুখমণ্ডল
মুখমণ্ডলে উত্তাপ, সঙ্গে গাল সামান্য লাল।
চোখের চারপাশে নীলচে প্রান্ত—সঙ্গে মুখ ফ্যাকাশে।
বাঁ গাল ফুলে আছে এমন অনুভূতি, সঙ্গে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের মতো সূচ-ফোটার অনুভূতি।
মুখে ছোপছোপ বাদামি দাগ।
মুখ ও গলা
গর্ভবতী নারীদের দাঁতব্যথা।
দাঁতে হুল-ফোটানো ও ছিঁড়ে-যাওয়া ব্যথা, যা কান ও কপালের দুপাশে ছড়ায়; দাঁত চোষার সময় দাঁতে শূলবিদ্ধ ব্যথা এবং সংস্পর্শে ও ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি।
দাঁতে বিঁধে-থাকা ব্যথা, উষ্ণতা প্রয়োগে উপশম।
দাঁতগুলো ভোঁতা বোধ হয়, যেন চুনের আস্তরণে ঢাকা।
স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা সন্ধ্যার বাতাসে দাঁতব্যথা; দাঁতগুলো যেন সাঁড়াশি দিয়ে চেপে ধরা হয়েছে, সঙ্গে ঘাড়ে ব্যথা।
মাড়ি সহজেই রক্তপাত করে।
ঠান্ডা জল পান করলে পেষক দাঁতে ঝটকা লাগে।
ধোয়ামোছায়, ঠান্ডায় ও স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা বাতাসে দাঁতব্যথা।
তৃষ্ণা ছাড়াই মুখে শুষ্কতা ও শুষ্কতার অনুভূতি।
জিহ্বায় শুষ্কতা ও শুষ্কতার অনুভূতি, যা মুখ ও গলা পর্যন্ত বিস্তৃত।
জিহ্বায় সাদা প্রলেপ—শ্লেষ্মাসহ।
জিহ্বার পক্ষাঘাত।
মুখে অ্যাফথাস ক্ষত।
তৃষ্ণা ছাড়াই গলায় প্রচণ্ড শুষ্কতা।
গলা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে এমন অনুভূতিতে গিলতে অসুবিধা।
নিঃশ্বাসে অত্যন্ত দুর্গন্ধ।
পাকস্থলী ও উদর
মুখে খড়ির মতো, লেইয়ের মতো স্বাদ; অথবা যেন খুব বেশি লবণ দেওয়া খাবার খেয়েছে।
ক্ষুধা বৃদ্ধি; তৃষ্ণা হ্রাস।
খাওয়ার পরে দুর্বলতা; আঁচড়ানোর অনুভূতিযুক্ত ঢেকুর।
হজমশক্তির দুর্বলতা—বিশেষত বৃদ্ধদের।
গর্ভাবস্থায় বমিভাব ও বমি।
গাড়িতে চলার সময় বমিভাব।
পাকস্থলীতে পূর্ণতা, সঙ্গে শ্বাসে চাপবোধ।
খাওয়ার অব্যবহিত পরে উদরে শূলজাতীয় ব্যথা এবং পান করার পরে বৃদ্ধি—কেবল দিনের বেলায়; সঙ্গে মুখ শুষ্ক ও তৃষ্ণাহীনতা।
পাকস্থলীতে উত্তাপ ও জ্বালার অনুভূতি।
উদরে কাটার মতো ব্যথা এবং নাভির চারপাশে কৃমির কারণে হচ্ছে এমন মোচড়-দেওয়া ব্যথা, সঙ্গে ঘুমভাব।
বায়ুর কারণে উদর ফুলে যায়, ফলে ঘুম হয় না।
যকৃৎ ফুলে যাওয়া; যকৃতের অঞ্চলে ভারী ভাব; প্লীহা ফুলে যাওয়া।
মল ও মলদ্বার
মল নরম হলেও মলত্যাগ ধীর ও কষ্টকর।
দুর্বলতা বা ঠান্ডার কারণে অতিসার; অতিসারের প্রবণতা।
শিশুদের ক্ষুধামান্দ্যসহ চেঁছে নেওয়া ডিমের মতো অতিসারজাতীয় মল।
গ্রীষ্মকালীন অসুখ—গ্রীষ্মকালীন অতিসার।
শিশুদের ক্ষুধামান্দ্য ও প্রচণ্ড ঘুমভাবসহ অতিসার।
অপাচ্য খাদ্যের অতিসার, সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে পড়া।
টাইফাস জ্বরে পচাগন্ধযুক্ত, রক্তমিশ্র অতিসার।
মূত্রযন্ত্র
ব্যথাযুক্ত, ফোঁটা ফোঁটা কষ্টকর মূত্রত্যাগ।
মূত্রত্যাগের সময় জ্বালা ও কাটার মতো ব্যথা।
মূত্রে ভায়োলেট ফুলের মতো গন্ধ।
বৃক্কশূল।
যৌনাঙ্গ
পুরুষ। যৌনযন্ত্রের দুর্বলতা; জননাঙ্গ শিথিল থাকলেও কামেচ্ছা।
প্রোস্টেট-রসের স্রাব।
নারী। অনিয়মিত ঋতুস্রাব—কখনো খুব আগে, আবার কখনো খুব দেরিতে।
ঋতুরক্ত গাঢ় রঙের ও ঘন।
ঋতুস্রাবের আগে কটিদেশে ব্যথা, দুর্বলতা, পাকস্থলীতে চাপ, মুখে জল ওঠা এবং যকৃতে ব্যথা।
জরায়ু থেকে রক্তক্ষরণ বা ঋতুস্রাবের সময় উদরে চাপ এবং নাভি থেকে পায়ের দিকে নেমে-যাওয়া টান।
খিঁচুনিময় মিথ্যা প্রসববেদনা।
আসন্ন গর্ভপাত।
পেসারি ব্যবহারের কারণে জরায়ুতে ব্যথা।
শ্বাসযন্ত্র
কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত; কর্কশতা; বিপরীত বাতাসের দিকে হাঁটলে হঠাৎ দেখা দেয়।
স্বরযন্ত্র বা বুকে প্রবল ব্যথাযুক্ত কোমলতাসহ কাশি।
জলে দাঁড়িয়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার ফলে শ্বাসে চাপবোধসহ শুকনো কাশি।
সন্ধ্যায় বিছানায় শরীর উষ্ণ হয়ে উঠলে অথবা কাজ করে শরীর উষ্ণ হলে, কফ ওঠাসহ বা কফ না উঠেও কাশি।
কাশির সঙ্গে রক্ত ওঠা।
গর্ভাবস্থায় কাশি।
খাওয়ার পরে শ্বাসকষ্ট।
অধিজঠরীয় খাঁজ থেকে উৎপন্ন বুকের চাপবোধ।
বুকে সংকোচনের অনুভূতি।
বুক ভরা ভাব এবং ভারী ওজন চেপে থাকার অনুভূতি।
অজ্ঞান হয়ে পড়ার আক্রমণসহ হৃদ্কম্পন—পরে ঘুম।
পিঠ ও ঘাড়
কটিদেশে—এবং হাঁটুতে—প্রচণ্ড দুর্বলতার অনুভূতি।
স্যাঁতসেঁতে বাতাসের ঝাপটায় ঘাড়ের পেশিতে টান।
পিঠে বা কটিদেশে এমন ব্যথা, যেন ভেঙে ও থেঁতলে গেছে।
গাড়িতে চলার সময় কটিদেশে ব্যথা।
মেরুরজ্জুর ক্ষয়রোগ।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
ঊর্ধ্ব অঙ্গ। হাত বরফে জমে যাওয়ার মতো ঠান্ডা; ঘরে ঢোকার সময় হাতে ভনভন অনুভূতি।
নিম্ন অঙ্গ। ডান হাঁটু মচকে গেছে এমন ব্যথা, বিশেষত নড়াচড়া ও সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়।
হাঁটুর—এবং কটিদেশের—দুর্বলতা।
সাধারণ লক্ষণসমূহ
যে-সব অঙ্গের উপর শোয়া হয়, সেগুলোতে প্রবল ব্যথাযুক্ত কোমলতা।
বাতজাতীয় ব্যথা—ঠান্ডা স্যাঁতসেঁতে বাতাস থেকে।
স্থান-পরিবর্তনশীল ব্যথা, যা কেবল ছোট একটি স্থান আক্রমণ করে ও অল্প সময় স্থায়ী হয় এবং ঘন ঘন ফিরে আসে।
হিস্টেরিয়াজনিত আক্রমণ।
অজ্ঞান হয়ে পড়ার প্রবণতা।
খিঁচুনি—শিশুদের।
সামান্যতম পরিশ্রমে প্রচণ্ড দুর্বলতা, ঘুমভাবসহ শুয়ে পড়তে বাধ্য করে।
সন্ন্যাসরোগ।
ঘুম
সব উপসর্গের সঙ্গে প্রচণ্ড ঘুমভাব।
অপ্রতিরোধ্য তন্দ্রা; গভীর অচেতন নিদ্রা।
জ্বর
নাড়ির গতি দ্রুত।
শরীর অনাবৃত করলেই কাঁপুনি এবং খোলা বাতাসে—বিশেষত স্যাঁতসেঁতে ঠান্ডা বাতাসে—শীতশীত ভাব, সঙ্গে মুখ অত্যন্ত ফ্যাকাশে; উষ্ণ ঘরে তাৎক্ষণিক উপশম।
পায়ে ঠান্ডার অনুভূতি, সঙ্গে হাতে উত্তাপ।
সন্ধ্যায় শীতশীত ভাব, সঙ্গে প্রচণ্ড তন্দ্রা।
শীতশীত ভাব ও তন্দ্রার প্রাধান্য।
সকালে হাতে উত্তাপ, সঙ্গে রোগচিন্তাগ্রস্ত মেজাজ, তৃষ্ণাহীনতা এবং মুখ ও গলার শুষ্কতা।
ঘাম অল্প, তবে কখনো কখনো রক্তের মতো লাল।
সবিরাম জ্বর। দ্বৈত তৃতীয়ক সবিরাম জ্বর, সঙ্গে ঘুমভাব, সাদা জিহ্বা, ঘড়ঘড়ে শ্বাস, রক্তমিশ্র কফ ওঠা এবং শুধু উত্তাপ-পর্যায়ে অতি সামান্য তৃষ্ণা।
সবিরাম জ্বর, সঙ্গে ঘুমভাব; উত্তাপের সময় মুখ ও গলায় প্রচণ্ড শুষ্কতা, কিন্তু তৃষ্ণা নেই।
ত্বক
ত্বক শুষ্ক ও ঠান্ডা এবং ঘাম হওয়ার প্রবণতা নেই।
ত্বক ঠান্ডা স্যাঁতসেঁতে বাতাসের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ত্বকে নীলচে দাগ।
অবস্থা
সমস্ত অসুখের সঙ্গে তন্দ্রা ও ঘুমভাব এবং অজ্ঞান হয়ে পড়ার প্রবণতা থাকে।
বিশেষত নারী ও শিশুদের উপযোগী।
বৃদ্ধি ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে বাতাসে অথবা ঠান্ডা, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায়; ব্যথার পাশের উপর শুয়ে থাকলে; ঠান্ডা খাবারে; মদ্যপ পানীয়ে; গাড়িতে চলার সময়; জল ও ধোয়ামোছায়; আবহাওয়ার পরিবর্তনে; বাতাসযুক্ত—ঝড়ো—আবহাওয়ায়।
উপশম ঘরের মধ্যে; উষ্ণ বাতাসে; শুষ্ক আবহাওয়ায়; উষ্ণভাবে শরীর ঢেকে রাখলে।